মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

দশমিনায় সরকারি ঘর দেয়ার কথা বলে এমপি শাহজাদার নামে ঘর বানিজ্য.

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৬২ সময় দর্শন

নিজস্ব প্রতিনিধি ::

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানে সরকারি ভাবে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বিনামুল্যে ঘর প্রদানের লক্ষ্যে সারাদেশ ব্যাপি যখন ভূমিহীনকে ভূমি ও গৃহহীনকে ঘর দেয়া হচ্ছে ঠিক এমন সময় পটুয়াখালী (৩) আসন দশমিনা-গলাচিপার এমপি এসএম শাহজাদার নাম বলে তারই বিশ্বস্ত কর্মী এমডি মকবুল হোসেন ওরফে বারেক মোল্লা ও রিপন মোল্লা নামের এই বাপ-ছেলে মিলে ঘর বানিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দশমিনা সদর ইউনিয়নের আরজবেগি গ্রামের ০৬ নং ও ০৭ নং ওয়ার্ডে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, এই বাপ-ছেলে মিলে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান সরকারি ঘর দেয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এব্যাপারে অনুসন্ধান চালালে একাধিক অভিযোগ পাওয়া যায় ওই বাপ-ছেলের বিরুদ্ধে।

বিশেষ করে ০৬ নং ওয়ার্ডভূক্ত আরজবেগি গ্রামের নাম না বলা শর্তে একজন জানান, আমরা অতি গরিব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। সরকারি ঘরের কথা শুনে বারেক মোল্লা ও তার ছেলে রিপন মোল্লাকে আমাকে একটা ঘর দেয়ার কথা বলি। যেহেতু এমপির সাথে সবসময় তারা উঠাবসা করে। তখন তারা আমাকে জানালো যে চল্লিশ হাজার টাকা দেয়া লাগবে খরচের জন্য এমপি বলেছে। তারপর অতি কষ্ট করে গত আশ্বিন মাসে ত্রিশ হাজার টাকা জোগাড় করে বারেক মোল্লার হাতে দিয়েছি। এখনো দশ হাজার টাকা সে দাবি করে। কিন্তু এখনো ঘর পাইনি।

এমনি ০৭ নং ওয়ার্ডভূক্ত সৌজ্জাপুরের নাম না বলা শর্তে একজন জানান, ঘরের কথা বলে গত শ্রাবন মাসে বারেক মোল্লা আমার কাছ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনও ঘর পাইনি কিন্তু এখন আবার আরও দশ হাজার টাকা দাবি করছে সে।

সরেজমিনে অভিযুক্ত বারেক মোল্লা জানান, আমি ও আমার ছেলে রিপন এমপির বিশ্বস্ত লোক। দয়া করে এমপিকে এব্যাপারে কিছু জানাবেন না। আমি সবার টাকা দিয়ে দিব।
এদিকে ছেলে রিপন মোল্লা জানান, আমি এখন ঢাকাতে এমপির সাথে আছি। দুইদিন পরে এসে আপনাদের সাথে কথা বলব। এছাড়াও নিউজ ঠেকাতে বিভিন্ন মহল চেষ্টা চালাচ্ছে।

এব্যাপারে গলাচিপা-দশমিনা আসনের সংসদ সদস্য এসএম শাহাজাদা (এমপি) এর নিকট জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার নিয়ে যদি কোন অর্থ বানিজ্যের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তার জন্য সকল ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। তাছাড়া মিডিয়ার কাছে কোন তথ্যের ভিত্তি থাকলে তা অবশ্যই প্রকাশ করবেন। যাহাতে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ও বিচারিক কার্যক্রমকে আরও সহজ করে।

তিনি প্রতিবেদককে আরও জানান, আমরা সংসদ সদস্য ব্যস্ত সময় পার করতে হয় আমাদের চারপাশে অনেক লোকজন আশা যাওয়া করে এদের সকলের ভালোমন্দ অনেক সময় আমরা জানতে পারি না। যেহেতু আমাকে জানিয়েছেন যেহেতু বিষয়টি আমি গুরুত্বসহকারে দেখব সরেজমিন তদন্ত করব। এবং ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই বাবা কিংবা ছেলে সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এবিষয়ে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আল-আমিন প্রতিবেদককে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘর একমাত্র গৃহহীন ও ভুমিহীনদের জন্য উপহার। এখানে অর্থ বানিজ্য করার কারো সুযোগ নেই। তবে কতিপয় খারাপ প্রকৃতির লোক বিভিন্ন মহলে প্রবেশ করে গোপনে এসমস্ত খারাপ কাজ করে। মিডিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক। আর আমরা ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এম.জাফরান হারুন                                                                                দেশের কন্ঠ ২৪.কম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
সহযোগিতায় রায়তা-হোস্ট ডিজাইন : SmartiTHost
desharkontho-lite