মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন

বরগুনায় আলোচিত যুবলীগ কর্মী বাদশা হত্যা মামলা।উপজেলা আওয়ামীলিগ সভাপতিসহ ৬ জনের বিরুদ্বে গ্রেফতারি পরোয়ানা

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৭১ সময় দর্শন
বরগুনা প্রতিনিধিঃ
বরগুনার আলোচিত যুবলীগ কর্মী শামীম ইমতিয়াজ ওরফে বাদশা হত্যা মামলায় বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বুড়িরচর ইউপি চেয়ারম্যান  সিদ্দিকুর রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিেষ্ট্রেট আদালতের বিচারক ইয়াসির আরাফাত অভিযোগ পত্র গ্রহন করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সিদ্দিকুর রহমান সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামীলিগের সভাপতি।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের(সিআইডি) গত ৭ জানুয়ারি আলোচিত এই হত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেন।
 মামলার অন্য অভিযোগযুক্তরা হলেন, মহসিন সরদার, জাকারিয়া, আল-আমিন গাজী, রাকিব সরদার, সাবু সরদার, সাবু ফকির, মতলেব সরদার, আল-আমিন আকন, মাহবুব সরদার, নাসরিন বেগম, সেয়ারা বেগম, আল আমিন গাজী ও মাহতাব সরদার। নিহত বাদশা বুড়িরচর ইউনিয়নের সোহরাব মৃধার ছেলে। তিনি উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে বরগুনা আলোচিত যুবলীগ কর্মী বাদশা হত্যা মামার পলাতক ৬ আসামি বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা  জারি করেছে আদালত।এছাড়া দুই আসামি স্থায়ী জামিনের জন্য আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
এই হত্যা মামলা প্রথম তদন্ত করেন বরগুনা সদর থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম।তার বদলি হওয়ার কারণে মামলাটির তদন্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে(সিআইডি)।সে সময়কার সিআইডির পরিদর্শক জুলফিকার প্রায় এক বছর তদন্ত করে ও অভিযোগপত্র দিতে পারেননি।পরে তদন্ত দেয়া হয় সিআইডির আরেক উপ-পরিদর্শক সেলিম সরদারকে।তিনি তদন্ত শেষ করে ৭ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
পুলিশ জানায়, ২০১৯ সালের ৮ জানুয়ারি রাত আটটার দিকে শামীম ইমতিয়াজ বাদশাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের কামড়াবাদ এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরের দিন ৯ জানুয়ারি নিহত বাদশার বাবা সোহরাব মৃধা ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ রয়েছে, মহসিন নামের এক যুবকের সঙ্গে বাদশার বাবা সোহরাব মৃধার কথা-কাটাকাটি হয়।এসময় সোহরাব মৃধাকে মারধর করেন মহসিন ও তার সহযোগীরা।বাবাকে মারধরের প্রতিবাদ করায় মহসিনের লোকজন মিলে বাদশাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন।এ সময় বাদশা দৌড়ে পাশের অটোরিকশা স্ট্যান্ডে যান এবং মুঠোফোনে তাঁর বাবাকে সবকিছু জানান।পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বাদশাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাদশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
 নিহত বাদশার বাবা মামলার বাদি সোহরাব মৃধার বলেন, আমার ছেলে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের নামে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমি সন্তান হত্যার সুবিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমি হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এখন কিছুটা আশার আলো দেখছি।মনে হচ্ছে সন্তান হত্যার সু-বিচার পাবো। তবে আসামিদের স্বজনরা আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
 আদালত বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয় জানতে বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের মুঠোফোনে কল দিলে তার সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মোঃআসাদুজ্জামান                                                                                দেশের কণ্ঠ ২৪.কম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
সহযোগিতায় রায়তা-হোস্ট ডিজাইন : SmartiTHost
desharkontho-lite