মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দশমিনায় আবুল নাসির’র ভয়ে দিনরাত কাটছে নির্যাতনের শিকার ডলি পরিবার, অভিযুক্তর দাবি না সাংবাদিক আসাদুর রহমানের কন্যা আরিশার ৮তম শুভ জন্মদিন উদযাপন শিক্ষাকে বিশ্বমানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নাই, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি কুমিল্লার প্রথম মুক্তাঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন বাউফলে মোটা অংকের টাকায় সুনীল মাষ্টারের কড়াল গ্রাসে বিলিনের পথে গরিব বসতবাড়ি বাঞ্ছারামপুরে মসজিদে প্রেমিকা নিয়ে জনতার হাতে আটক ইমাম; উদ্ধার করেছে পুলিশ মাদারীপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনার প্রস্তাব গ্রহণ করে সরকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে তথ্য প্রযুক্তির সাথে সংযুক্ত রাখতে কম্পিউটার শিক্ষার বিকল্প নাই: ইমদাদুল হক মিলন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা-আখাউড়া টেলিভিশন সাংবাদিক ক্লাবের পক্ষ থেকে কসবায় মাস্ক বিতরণ দশমিনায় নিজ বাবাকে জবাই করে হত্যাকারী কুখ্যাত ছেলে ইমরান গ্রেফতার

আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের ১৫ লক্ষাধিক টাকা লোপাট; মিলেছে সত্যতা

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৮১ সময় দর্শন

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পে সম্মানি ও প্রশিক্ষন ভাতার ১৫ লক্ষাধিক টাকা লোপাট করা হয়েছে তার অভিযোগ পাওয়া গেছে । গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ৪৫ জন সভাপতি ও ম্যানেজারদের এ ভাতা স্বাক্ষর জাল করে প্রকল্পের সমন্বয়কারী গোলাম আযম এ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগের তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে বলে রাঙ্গাবালী ইউএনও নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ২০১৪-২০১৭ তিন অর্থ বছরের আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের (পূর্বের নাম একটি বাড়ি একটি খামার) সভাপতি-ম্যানেজারদের সম্মানি ও প্রশিক্ষণের ভাতা না দিয়ে প্রকল্পের সমন্বয়কারী সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে চলতি বছরের ১৪ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়াভাঙ্গুনি ৭ নম্বর গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ম্যানেজার রেদওয়ানুর রহমানের দেওয়া এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রিপন খন্দকারকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের গ্রাম উন্নয়ন সমিতি পরিচালনা করার জন্য দুই বছর সম্মানিভাতা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু উপজেলায় কর্মরত ৪৫ জন সভাপতি ও ম্যানেজারের কেউ সেই সম্মানিভাতা পায়নি বলে লিখিতভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানানো হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬ লক্ষ ৭২ হাজার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ লক্ষ ৭৭ হাজার এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা কলাপাড়া হিসাব রক্ষণ কার্যালয় থেকে সভাপতি ও ম্যানেজারদের সম্মানিভাতা উত্তোলন করা হয়।

শুধুই তাই নয়, সমিতির সভাপতি ও ম্যানেজারদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থও আত্মসাতের তথ্যও পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সমিতির ৪৫ জন সভাপতি ও ম্যানেজাররা কোন প্রশিক্ষণ কিংবা প্রশিক্ষণের ভাতা পায়নি। তবে বিল ভাউচার যাচাই করে দেখা যায়, প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ বিল ভাউচারের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ৪ জুন ৪৯ হাজার, ২০১৬ সালের ১৯ জুন দুইটি বিলে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার, ২০১৭ সালের ২০ জুন তিনটি বিলে ৮৭ হাজার টাকা কলাপাড়া হিসাব রক্ষণ কার্যালয় থেকে উত্তোলন করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সমিতির সভাপতি ও ম্যানেজারদের স্বাক্ষর জাল করে প্রকল্পের সমন্বয়কারী গোলাম আযম ওইসব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। বিল ভাউচারের স্বাক্ষর যাচাই করে দেখা যায়, সমিতির সভাপতি ও ম্যানেজারদের স্বাক্ষরের সঙ্গে এর কোন মিল নেই।

ওই তদন্ত চলাকালীন জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের কার্যালয়ে ইন্টারনেট হাব স্থাপনের জন্য ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু তদন্তকালীন কার্যালয় পরিদর্শন করে এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

গত ২১ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ প্রতিবেদনটি দাখিল করা হলে প্রমাণাদি সংযুক্ত করে প্রকল্প পরিচালকের কাছে (পিডি) পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রিপন খন্দকার জানান, ‘সভাপতি ও ম্যানেজারদের সম্মানি, প্রশিক্ষণভাতা ও ইন্টারনেট হাব বাবদ বরাদ্দকৃত মোট ১৫ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪০০ টাকা  প্রকল্পের সমন্বয়কারী গোলাম আযম আত্মসাৎ করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়। এই তদন্ত প্রতিবেদন পিডি (প্রকল্প পরিচালক)কে পাঠানো হয়েছে।’

অভিযুক্ত প্রকল্প সমন্বয়কারী গোলাম আযমের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও ফোনটি বন্ধ থাকায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পিডি স্যারকে পাঠানো হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম.জাফরান হারুন

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী                                               দেশের কন্ঠ ২৪.কম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
সহযোগিতায় রায়তা-হোস্ট ডিজাইন : SmartiTHost
desharkontho-lite