শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

জাতীয় পরিচয়পত্রে ৮২ বছর এজাহারে ৬৫ বছর আগাম জামিনে মুক্ত হলেন বৃদ্ধ মুক্ত মিয়া

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১১৫ সময় দর্শন
বাদল আহাম্মদ খান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
 উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হলেন মতিউর রহমান ওরফে মুক্ত মিয়া (৮২)। গত ৯ সেপ্টেম্বর  বিজ্ঞ বিচারক তাকে আগাম জামিন দেয়।  মুক্ত মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী  হিরাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একজন সাবেক সেনা সদস্য।
মুক্ত মিয়ার ছেলে অ্যাডভোটেক মিলন মিয়া জানায়,  মাদক ব্যবসায় বাধা, জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ ও বাড়ির সীমানাকে কেন্দ্র করে আমার গোষ্টির কয়েকজন দুষ্ট প্রকৃতির  লোকজনসহ একটি মহল দীর্ঘদিন ধরেই আমার বৃদ্ধ পিতাসহ আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে।
 তারা আমার সরলমনা পিতাকে সমাজের মানুষের কাজে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিগত ১৫ জুলাই একটি ভ’য়া যৌনহয়রানীর  মিথ্যা নাটক  সাজায়। পরে ১৮ আগস্ট এই ষড়যন্ত্রকারীরা আমার পিতার বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা দায়ের করে।  আমার পিতার বয়স বর্তমানে ৮২ বছরের চেয়েও বেশি। অথচ মামলায়  আমার বৃদ্ধ পিতাকে  ফাঁসানোর জন্য এজাহারে ৬৫ বছর দেখানো হয়। কিন্তু তাহার জাতীয় পরিচয় পত্রে জন্ম তারিখ ১৯ জুলাই ১৯৩৮ উল্লেখ আছে। যাহা আপনারা খোঁজ নিলে জানতে পারবেন।  আমার পিতা একজন সৎ ও ধর্মপ্রাণ মানুষ। তিনি অবসর প্রাপ্ত একজন সেনা সদস্য। তিনি সব সময় গ্রামের অসহায় মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করে আসছেন। গ্রামের মসজিদ – মাদ্রাসাসহ এলাকার উন্নয়ন কাজেও আমার পিতার ভুমিকা রয়েছে।  তার সন্তান হিসাবে আমরাও স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এবং পিতার আদর্শ লালন-পালন করে আসছি। আমাদের সার্বিক উন্নতি ও সুনাম নষ্ট করার জন্য এই মুখোশধারী মানুষগুলো  এক অসহায় নারীকে বস করে ও অর্থ দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য আমার বৃদ্ধ পিতার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। মিথ্যা মামলা জড়িয়ে দেওয়ার কারণে আমার পিতা আজ মৃত্যুশয্যয়। তাই সমাজ দেশবাসী ও আইনের কাছে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে এঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি। তিনি আরো জানান, এই মিথ্যা মামলা ও ষড়যন্ত্রের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা জড়িত তাদের সবাইকে আইনের সন্মুখীন করা হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল এর আইনজীবি অ্যাডভোকেট  মহি উদ্দিন আহমেদ বলেন,  মতিউর রহমান মুক্ত মিয়া গ্রামের একজন প্রবীণ ব্যক্তি। নারী ও শিশু আইনের ১০ ধারায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ওনাকে ফাঁসানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের বিচারক বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখেন মামলাটি সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। একজন প্রবীণ ব্যক্তি এই বয়সে এধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে পারে না। বিজ্ঞ বিচারক এই মামলার সাথে যারা জড়িত তাদের শোকজ করেছে।  এই বিচার চলমান আছে। এটির ন্যায় বিচার অবশ্যই হবে।  এটির সাথে যারা জড়িত আছে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ ও সংশোধনী ২০০৩ এর ১৭ ধারা অনুযায়ী তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা হবে।
বৃদ্ধ মতিউর রহমান বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের স্বীকার। এই বৃদ্ধ বয়সে আমাকে মিথ্যা মামলা ফাঁসানো হয়েছে। যারা আমার ও আমার পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছে তাদের বিরুদ্ধে  আমি আইনের কাছে ন্যায় বিচার চাই।
এদিকে আগাম জামিনে মুক্ত মিয়া বাড়িতে ফিরে আসায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।  দোয়া পরিচালনা করেন হিরাপুর মধ্যপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। এসময় গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিসহ আইনজীবিরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া শেষে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
সহযোগিতায় রায়তা-হোস্ট ডিজাইন : SmartiTHost
desharkontho-lite